আইনজীবী হত্যার সঙ্গে সনাতনী কেউ জড়িত নয়, দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে
Categories:

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সনাতনীদের জড়িত থাকার বিষয়টি নাকচ করেছে। তাদের দাবি, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সনাতনীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় জোটটি প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সনাতনীদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জানিয়েছে, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সনাতনীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আজ চট্টগ্রাম আদালতে আনা হয়, এবং সেখানে তাকে মিথ্যা ও কথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।’’ আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর চট্টগ্রামে সাধারণ সনাতনীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। হাজার হাজার সনাতনী আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রিজন ভ্যানের সামনে শুয়ে প্রতিবাদ জানায়। তবে, সেই প্রতিবাদ চলাকালে সনাতনীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের ছড়িয়ে পড়ার পর হামলার ঘটনা ঘটে।
জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘‘সনাতনীরা সবসময় অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা কখনোই মসজিদে হামলা করেনি। মসজিদে হামলা হয়েছিল, তবে সেটা ছিল গুজব এবং অন্যদের জড়ো করার চেষ্টা।’’ সনাতনরা দাবি করেছে, হামলাকারীরা সাইফুল ইসলাম আলিফকে মারাত্মকভাবে জখম করেছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবর যে ‘‘ইসকনের সদস্যরা তাকে জবাই করেছে’’—তা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে নিরস্ত্র অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়, এবং তাঁর মুক্তির জন্য সনাতনীরা আদালত চত্বরে আন্দোলন চালায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি চেয়ে সাধারণ সনাতনীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।’’ তাদের দাবি, ‘‘এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা সনাতন ধর্মের প্রতি সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে।’’
এই ঘটনায় জোটটি আরও দাবি করেছে, ‘‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, এবং আমরা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’’ তারা অভিযোগ করেছে যে, আদালত চত্বর থেকে বের হয়ে সাদাপোশাকধারীরা স্লোগান দিয়ে সেবক কলোনিতে আগুন দেয় এবং ফিরিঙ্গিবাজার রোডে লোকনাথ মন্দিরে হামলা চালায়।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, ‘‘এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যেই গোষ্ঠী দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি প্রদান করা উচিত।’’
এছাড়া, জোটটি জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আট দফা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাদের আন্দোলন মূলত সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষার জন্য।
এই ঘটনা বাংলাদেশে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উপর একটি গুরুতর প্রশ্নবোধক চিত্র তৈরি করেছে। সনাতনদের দাবি, তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস, এবং তারা কখনোই অন্য ধর্মের স্থানে আক্রমণ করেনি। তাদের দাবি, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সনাতনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
এপিপিজি এবং অন্যান্য সংগঠনের চোখে, এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর প্রবণতার নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারিখ: ২৭.১১.২০২৪