বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি গ্রুপের
Categories:

যুক্তরাজ্যের সংসদীয় গ্রুপ অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর দ্য কমনওয়েলথ (এপিপিজি) বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের একটি প্রতিবেদন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে পাঠানো হয়েছে, যেখানে আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন, এবং আইনশৃঙ্খলার অবস্থার উপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: যুক্তরাজ্যের সংসদীয় গ্রুপ অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর দ্য কমনওয়েলথ (এপিপিজি) বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে দেশের আইনগত পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে পাঠানো হয়েছে।
এপিপিজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এবং সহিংসতার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ২ হাজারেরও বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সরকার (অন্তর্বর্তী সরকার) বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
এপিপিজি প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা তাদের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।’’ তারা আরও বলে যে, ‘‘মানবাধিকার এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে হবে।’’ অন্যথায়, এটি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে।
এপিপিজির প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের আইনগত পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘অথর্ব হত্যাকাণ্ডের মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে’’ এবং ‘‘আইনের শাসনের অভাব’’ রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা, যা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
একটি সূত্রে বলা হয়, ‘‘আওয়ামী লীগে যুক্ত প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে, এর মধ্যে ২৬ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার জনের নাম অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।’’ এসব মামলার মধ্যে অনেকেই ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন, এবং তা গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন এবং উগ্রবাদী ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এপিপিজি বলছে, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এবং ইসলামী উগ্রবাদীদের উত্থান উদ্বেগের বিষয়, এবং আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। এপিপিজি জানায়, ‘‘বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই মানবাধিকার, গণতন্ত্র, এবং আইনের শাসন বজায় রাখবে—এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সকল নাগরিক তাদের অধিকার ভোগ করতে পারবে।’’
এপিপিজি প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে পাঠানোর পর, এর গুরুত্ব আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিণতি কী হতে পারে তা দেখার অপেক্ষা রয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রিটেনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমারের মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ট্রেজারি মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করে।
তারিখ: ২৭.১১.২০২৪