ভৈরবে হিন্দু পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্বামী জনি বিশ্বাস স্ত্রী, দুই সন্তান এবং নিজেকে হত্যার মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভৈরবে হিন্দু পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্বামী জনি বিশ্বাস স্ত্রী, দুই সন্তান এবং নিজেকে হত্যার মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কিশোরগঞ্জ, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের রানীবাজার এলাকায় সাততলা ভবনের ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন জনি বিশ্বাস (৩২) ও তাঁর স্ত্রী নিপা রানী মল্লিক (২৬)। এই দম্পতি এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে বুধবার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা তাঁদেরকে শান্ত, ভদ্র ও সুখী পরিবার হিসেবে জানতেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে প্রতিবেশীরা একই কক্ষে পরিবারের চারজনের মৃতদেহ দেখতে পান। জনি বিশ্বাসের লাশ ঝুলছিল ফ্যানের সঙ্গে, স্ত্রী নিপার গলা কাটা অবস্থায় এবং দুই শিশু ধ্রুব (৭) ও কথা (৪)-এর লাশ খাটে পড়ে ছিল। নিপা রানী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, ঘটনাটি হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। জনির মা শিখা রানী বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

জনি-নিপার প্রতিবেশীরা জানান, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও তাঁরা কখনো কারও কাছে সাহায্য চাননি। জনির পেশা ছিল মোটর ওয়ার্কশপে হেডমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা। স্ত্রী নিপা রানী ছিলেন গৃহিণী। তাঁদের বড় ছেলে ধ্রুব স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।

জনি-নিপার সঙ্গে সাবলেট থাকা কার্তিক ও সৃষ্টি দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছুই টের পাননি।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহিন জানিয়েছেন, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, জনি বিশ্বাস নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে নেশার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জনির ছোট ভাই পলাশ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।’ এ কারণে তাঁরা হত্যা মামলা করেছেন।

ভৈরবের এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা শোকাহত। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এই রহস্য উন্মোচিত হবে।

তারিখ: ২৮.১১.২০২৪