বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা বিপন্ন অবস্থায়, এটি বিশ্বকে দেখাতে চায় ভারত, অভিযোগ গণতন্ত্র মঞ্চের

গণতন্ত্র মঞ্চের দাবি, প্রতিবেশী ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী, অসহিষ্ণু দেশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং ভারতের প্রতিক্রিয়াগুলোকে তারা উসকানিমূলক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এমন মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা বিপন্ন অবস্থায়, এটি বিশ্বকে দেখাতে চায় ভারত, অভিযোগ গণতন্ত্র মঞ্চের

গণতন্ত্র মঞ্চের দাবি, প্রতিবেশী ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী, অসহিষ্ণু দেশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং ভারতের প্রতিক্রিয়াগুলোকে তারা উসকানিমূলক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এমন মন্তব্য করেন।

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে জঙ্গিবাদী ও অসহিষ্ণু দেশ হিসেবে তুলে ধরার জন্য প্রতিবেশী ভারত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক এ কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, ‘পঞ্চম আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরাজয়কে বিজেপি সরকার তাদের পরাজয় হিসেবে দেখছে। এ কারণে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত সরকার এ বিষয়ে যে ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে, তা একধরনের উসকানি।’

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোর বিষয়ে বলেন, ‘আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত আমাদের জন্য অশুভ ইঙ্গিত বহন করছে। সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।’

পত্রিকা অফিসের সামনে গরু জবাইয়ের ঘটনার বিষয়ে মান্না বলেন, ‘এটি একটি বীভৎস ঘটনা। মতভেদ থাকলে সেটা প্রকাশের পদ্ধতি থাকতে হবে। অস্ত্রের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারকে এমন ঘটনার পূর্ব লক্ষণগুলো দেখে সতর্ক হতে হবে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘হত্যার পদ্ধতি দেখে বোঝা যায়, এটি এমনভাবে ঘটানো হয়েছে যাতে মুসলমানরা হিন্দুদের ওপর হামলা করে। এই ধরনের ঘটনা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপান্তর করার চেষ্টা সবাই মিলে প্রতিহত করা গেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, তা জনগণের সচেতনতা দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী দেশের এমন প্রতিক্রিয়া নজিরবিহীন। কিছু ব্যক্তি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে এবং গণমাধ্যমকে বিভিন্নভাবে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।

তারিখ: ২৮.১১.২০২৪