‘কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ করুক ইউনুস সরকার’, চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারিতে সরব রবি শংকর

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদকারী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ভারত সরকারের প্রতিবাদ তীব্র হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গ্রেনেড ছোঁড়ার খবরও পাওয়া গেছে। রবি শংকর বলেন, ‘বাংলাদেশে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা আশা করি যে, শান্তির নোবেল পাওয়া প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস এর থেকে কিছু ভালো কাজ করবেন।’
‘কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ করুক ইউনুস সরকার’, চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারিতে সরব রবি শংকর

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদকারী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ভারত সরকারের প্রতিবাদ তীব্র হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গ্রেনেড ছোঁড়ার খবরও পাওয়া গেছে। রবি শংকর বলেন, ‘বাংলাদেশে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা আশা করি যে, শান্তির নোবেল পাওয়া প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস এর থেকে কিছু ভালো কাজ করবেন।’

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মুখর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারির পর দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হলে তাঁর পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং বিক্ষোভকারীদের থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষোভের মাঝেই এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই ঘটনায় ভারত সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়, ‘‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারি এবং জামিন না পাওয়ার ঘটনা আমরা যথেষ্ট উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি।’’ তারা দাবি করে, ‘‘বাংলাদেশ মৌলবাদীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে, যেখানে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার আক্রমণ চলছে।’’ ভারত সরকার বাংলাদেশ প্রশাসনকে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানায়।

তবে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করা হয় এবং বলা হয়, ‘‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে ভারতের যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী।’’

এদিকে, চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারির ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের আদালত চত্বরে বিক্ষোভ এবং আইনজীবী হত্যার অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানা গেছে।

চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারের পর, ভারতের বিশিষ্ট হিন্দু সংগঠক রবি শংকর তার গ্রেপ্তারির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘‘চিন্ময় দাস কোনো অস্ত্র হাতে তুলে সরকারের বিরুদ্ধে নামেননি। তিনি শুধু বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেছে।’’ তিনি বাংলাদেশের সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন এবং কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান, যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চিত্র নষ্ট করছে।

রবি শংকর আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা আশা করি যে, শান্তির নোবেল পাওয়া প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস এর থেকে কিছু ভালো কাজ করবেন।’’ তিনি বাংলাদেশের সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান এবং পরিস্থিতি শোধরানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারী, যিনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ মঞ্চের প্রধান মুখ, বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলমান অত্যাচার, নির্যাতন ও খুনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তার গ্রেপ্তারের পর সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, ইন্টারন্যাশনাল কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তারা জানায় যে, চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারির ঘটনায় তারা কোনো ধরনের সমন্বয় বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনি। তবে তারা সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের জন্য এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। সংখ্যালঘুদের অধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যদি সরকার এই পরিস্থিতির দ্রুত এবং কার্যকরী সমাধান না খুঁজে পায়।

তারিখ: ২৭.১১.২০২৪