হিন্দু সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, কী প্রতিক্রিয়া অভিষেকের?

চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক হওয়ায় কেন্দ্র সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, তারা দলগতভাবে তার সমর্থন জানাবে।
হিন্দু সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, কী প্রতিক্রিয়া অভিষেকের?

চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক হওয়ায় কেন্দ্র সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, তারা দলগতভাবে তার সমর্থন জানাবে।

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জেরে গত দুই দিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই ঘটনাগুলো নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউনুস সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির চিঠিপত্র চালাচালি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব বুধবার বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা নিয়ে তারা কেন্দ্র সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বিজেপি দাবি করেছে, বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা চরম বিপন্ন।

তৃণমূলের অবস্থান

বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক হওয়ায় কেন্দ্র সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, তারা দলগতভাবে তার সমর্থন জানাবে।

বুধবার দিল্লিতে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা বারবারই এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, দলগতভাবে আমরা তার পাশে থাকব। তবে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুর্ভাগ্যজনক।’’

প্রতিবাদে উত্তপ্ত বাংলাদেশ

চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারির পর তাঁর সমর্থনে পথে নামে সনাতনী সংগঠনগুলো। এর জেরে কয়েকটি জায়গায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলো এই ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা দাবি করছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি এই ধরনের আক্রমণ দেশের ভেতরে-ভেতরে বিদ্যমান অসহিষ্ণু পরিবেশেরই বহিঃপ্রকাশ।

প্রতিবেশী সম্পর্কের প্রভাব

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি ও ঢাকা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে, ভারতের বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তারিখ: ২৮.১১.২০২৪