ইসকন নিষিদ্ধের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
Categories:

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে একাধিক সমাবেশ করেছে। হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামে জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। জানাজা শেষে একটি বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সব ধর্মের সহাবস্থান থাকবে। কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে কেউ উগ্রবাদী সংগঠন পরিচালনা করলে তা সহ্য করা হবে না। ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, ইসকন আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুসারে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে।
অপর বক্তা সারজিস আলম বলেন, ‘‘আমরা সব ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু কেউ যদি এই সহানুভূতিকে দুর্বলতা মনে করে, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামে ইসকনের কোনো জায়গা হবে না।’’
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরও একটি সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানেও ইসকনকে ‘‘জঙ্গি’’ ও ‘‘সন্ত্রাসী’’ সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনের নেতারা।
মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা মোদিকে নিয়ে বাংলাদেশের মাটির দিকে হাত বাড়াচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানচিত্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে দেশের মানুষ সেই হাত গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।’’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভায় ‘‘সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে দেখলেই গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত’’ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় অন্তত ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া ২৬ নভেম্বর আদালত চত্বরে সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ দেশীয় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভসহ (ককটেল) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে।
তারিখ: ২৮.১১.২০২৪