হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব
Categories:

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দেশের সংবিধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটি বিদ্যমান সংবিধানের প্রস্তাব বহাল রাখার পাশাপাশি, ‘রাষ্ট্রধর্ম’ সংবলিত অনুচ্ছেদ বাতিল, সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কিছু সংশোধনী আনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের এই প্রস্তাব সংবিধান সংস্কার কমিশনের অনলাইন পোর্টালে জমা দেওয়া হয় এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সরকারে জমা দেওয়া হবে।
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দেশের সংবিধান সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটি বিদ্যমান সংবিধানের বেশ কিছু বিষয় অব্যাহত রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে, তবে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ সংবলিত সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এই অনুচ্ছেদ সংবিধানের মূল প্রস্তাবের বিরুদ্ধে, যা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের বৈষম্য এবং তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে পরিণত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
গতকাল সোমবার রাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের অনলাইন পোর্টালে এই প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর আজ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা তাদের এই দাবির কথা জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংবিধানে “ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা” শীর্ষক অনুচ্ছেদটি হুবহু বহাল রাখার পক্ষে রয়েছে, কারণ এটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্যকে দৃঢ়ভাবে প্রতিস্থাপন করে, যেখানে জাতি, ধর্ম বা বর্ণের বিভেদ ছাড়াই সব মানুষকে একত্রে গ্রহণ করা হয়।
এছাড়া, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদও তাদের মতে অব্যাহত রাখা উচিত। তারা দাবি করেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এই পরিবর্তনগুলো অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে এবং আইনের দৃষ্টিতে সবাইকে সমান অধিকার প্রদান করা হবে।
এছাড়া, সংগঠনটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে। তারা জানায়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে, যেমন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ, জাতীয় নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে হবে।
এছাড়া, তারা প্রস্তাব করেছেন যে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা উচিত। এর ফলে সংখ্যালঘু জনগণের মতামত এবং চাহিদা দেশের শাসন ব্যবস্থায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।
সংবিধান সংস্কার কমিশন কর্তৃক গত ৪ নভেম্বর থেকে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করার পর, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে এই প্রস্তাবগুলো জমা দেওয়া হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ছয়টি কমিশন তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং অভ্যন্তরীণ সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এই প্রস্তাব দেশের সংবিধানের মানবাধিকার এবং সমাজের সাম্য প্রতিষ্ঠায় এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া, ১০টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ৬টি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং এদের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের আইনি কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে।
তারিখ: ২৭.১১.২০২৪