সংবিধান সংস্কার কমিশনে ঐক্য পরিষদের প্রস্তাব জমা

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘুদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে একাধিক প্রস্তাব সংবিধান সংস্কার কমিশনের অনলাইন পোর্টালে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনে ঐক্য পরিষদের প্রস্তাব জমা

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘুদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে একাধিক প্রস্তাব সংবিধান সংস্কার কমিশনের অনলাইন পোর্টালে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের অনলাইন পোর্টালে একাধিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। আজ জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সংবিধানের প্রস্তাবনা অপরিবর্তিত রাখা এবং সংবিধান থেকে ২(ক) অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি।

ঐক্য পরিষদের মতে, সংবিধানের প্রস্তাবনা আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের পার্থক্য ছাড়াই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সমতা, স্বাধীনতা, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। তারা দাবি করে, ২(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা সংবিধানের মূল আদর্শের পরিপন্থী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মর্যাদায় নামিয়ে আনে।

সংবিধানের “ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা” সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাবও করেছে পরিষদ। তাদের ভাষ্যমতে, এই অনুচ্ছেদ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের মূল নীতিগুলো ধারণ করে এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে।

সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়ে ঐক্য পরিষদ দাবি জানায় সংখ্যালঘু সুরক্ষার জন্য একটি আইন প্রণয়ন, একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করার। তারা উল্লেখ করে, এই উদ্যোগগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এবং আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয়।

ঐক্য পরিষদ ২৮ অনুচ্ছেদে আরও দুটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত ৫ নং ধারায় সংখ্যালঘুদের জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সরকারি কর্ম কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থাগুলোতে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ৬ নং ধারায় জনসংখ্যার আনুপাতিক ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বিচারিক সংস্কার কমিশনের একটি বৈঠক গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারিক সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নঈম মমিনুর রহমান এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রিয়াজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই কমিশন একে অপরের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে, বিশেষ করে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা তাদের সুপারিশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এই প্রস্তাবগুলো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঐক্য পরিষদ আশা প্রকাশ করেছে যে সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তারিখ: ২৭.১১.২০২৪