বাংলাদেশে জাতিগত নিধন চলছে - ড. ইমরান এইচ সরকার
Categories:

বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেফতার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। শাহবাগ আন্দোলনের নেতা ইমরান এইচ সরকার চিন্ময়ের মুক্তির দাবি জানিয়ে লেখেন, “অবিলম্বে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুকে মুক্তি দিন। বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের জাতিগত নিধন বন্ধ করুন।” চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে, পাশাপাশি তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। (সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস)
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেফতার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। ড. ইমরান এইচ সরকারসহ দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের একটি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি বহাল থাকে। ৩১ অক্টোবর সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হয়। গতকাল তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
চিন্ময়ের গ্রেফতারির প্রতিবাদে চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ জড়ো হন। সেখানে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে সওয়াল করতে ৫১ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তবে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সমাজকর্মী ও শাহবাগ আন্দোলনের নেতা ড. ইমরান এইচ সরকার চিন্ময়ের মুক্তির দাবি জানিয়ে লেখেন, “অবিলম্বে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুকে মুক্তি দিন। বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের জাতিগত নিধন বন্ধ করুন।” চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর আজ আবার তিনি লেখেন, “এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি অপরাধী নন। সংখ্যালঘু নেতা হওয়া অপরাধ নয়।”
এদিকে, চিন্ময়ের সমর্থনে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চিন্ময়ের গ্রেফতার ও তাঁর জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ তাঁকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছে এবং জেল হেফাজতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইসকন বাংলাদেশ চিন্ময়কে বহিষ্কার করলেও তাঁর নেতৃত্বে নতুন করে গঠিত বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট বর্তমানে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয়। তবে তাঁর গ্রেফতার এবং জামিন খারিজের ঘটনায় দেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে শঙ্কা ও বিক্ষোভ চলছে।
তারিখ: ২৭.১১.২০২৪