‘বাঙালি আপনাকে আর শ্রদ্ধা করে না’, বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নে ইউনুসকে ‘খোলা চিঠি’ তসলিমার

ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেপ্তারির ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ভারতের নয়াদিল্লি এই ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের প্রশাসনকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তসলিমা নাসরিন এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, “ইউনুস সরকার নিজের অবস্থান এবং নীতি নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন। একদিকে তিনি হিন্দু নেতাদের গ্রেপ্তার করছেন, অন্যদিকে মৌলবাদীদের কর্মকাণ্ডে নীরব রয়েছেন।” বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের মাধ্যমে চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে।
‘বাঙালি আপনাকে আর শ্রদ্ধা করে না’, বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নে ইউনুসকে ‘খোলা চিঠি’ তসলিমার

ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেপ্তারির ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ভারতের নয়াদিল্লি এই ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের প্রশাসনকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তসলিমা নাসরিন এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, “ইউনুস সরকার নিজের অবস্থান এবং নীতি নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন। একদিকে তিনি হিন্দু নেতাদের গ্রেপ্তার করছেন, অন্যদিকে মৌলবাদীদের কর্মকাণ্ডে নীরব রয়েছেন।” বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের মাধ্যমে চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে।

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪: ইসকনের সন্ন্যাসী ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ মঞ্চের প্রধান মুখ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেপ্তারির ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সোমবার ঢাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছে ইউনুস সরকার। এ ঘটনার পর থেকেই সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের স্রোত শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ও জামিন না পাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। এর আগেও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন, খুন এবং ঘরবাড়ি লুঠের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের কার্যকলাপ বাংলাদেশের মৌলবাদী কার্যকলাপকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।”

এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “চিন্ময় প্রভু সনাতনী হিন্দু সমাজের একজন সম্মানীয় প্রতিনিধি। তাঁকে দ্রুত মুক্তি না দিলে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহ বন্ধ করা হতে পারে।” এছাড়াও, রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারির পর ঢাকাসহ চট্টগ্রাম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং মশাল মিছিলের মাধ্যমে সনাতনী সম্প্রদায় তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মিছিলকারীরা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে চিন্ময় প্রভুর মুক্তি দিতে হবে।

উল্লেখ্য, চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাটি দায়ের হয়েছে বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে। তবে, তসলিমা নাসরিন এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, “ইউনুস সরকার নিজের অবস্থান এবং নীতি নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন। একদিকে তিনি হিন্দু নেতাদের গ্রেপ্তার করছেন, অন্যদিকে মৌলবাদীদের কর্মকাণ্ডে নীরব রয়েছেন।”

তসলিমার বক্তব্য ছাড়াও, গ্রেপ্তারির খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবেশী দেশেও এই ইস্যুতে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। চিন্ময় প্রভুর মুক্তি দাবি করে ঢাকাসহ চট্টগ্রামের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ মশাল মিছিল এবং বিক্ষোভে অংশ নেন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারতের বার্তা এবং প্রতিবেশী দেশের বিক্ষোভ পরিস্থিতি উভয়ই প্রমাণ করে যে, এই গ্রেপ্তারি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং অধিকার সুরক্ষার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তারিখ: ২৭.১১.২০২৪