চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারে ঐক্য পরিষদের ক্ষোভ
Categories:

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় যুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কেন্দ্র করে সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর (৩৮) গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সোমবার (২৫ নভেম্বর) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনের তিন সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, প্রফেসর ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক এবং নির্মল রোজারিও এ গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।” তারা আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “এ গ্রেপ্তার শুধু ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের নয়, এটি জাতীয় স্বার্থেরও ক্ষতি করছে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা দায়ের করেন মো. ফিরোজ খান। মামলার ভিত্তিতে দুজনকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা হলেন রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাস।
মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার ধর (৩৮), চট্টগ্রাম হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত (৩৪), প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ (৪৮), গোপাল দাশ টিপু (৩৮), এবং প্রকৌশলী অমিত ধর (৩৮)।
এছাড়াও মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বেশিরভাগই বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে যে, এ ধরনের মামলা এবং গ্রেপ্তার দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করছে। নেতারা বলেন, “আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
গ্রেপ্তারের পর থেকেই সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী একজন ধর্মীয় নেতা এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সংঘটনের নেতারা এ ঘটনায় রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানির অবসান চান।
তারিখ: ২৭.১১.২০২৪