বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান
Categories:

বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের মতোই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এ কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
যুক্তরাষ্ট্র, ২২ নভেম্বর, ২০২৪: গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার সমুন্নত থাকবে, সেটাই আমরা দেখতে চাই। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগেও যেমন ছিল, এখনো তেমনই রয়েছে।”
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ম্যাথু মিলার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়ে কথা বলেন। এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি সম্পর্কিত দাবি নিয়ে আপনার কোনো তথ্য বা মূল্যায়ন আছে কি?”
এ প্রশ্নের জবাবে ম্যাথু মিলার বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেখিনি এবং এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
আরেকটি প্রশ্নে সাংবাদিক বাংলাদেশের আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলা এবং এর প্রভাব নিয়ে জানতে চান। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুর আইনজীবীর ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানতে চান, এসব ঘটনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন কী।
ম্যাথু মিলার এ প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে চাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইনের শাসন এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বরাবরই একই।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে ম্যাথু মিলার বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
ব্রিফিংয়ে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্নে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘু অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব পুনরায় নিশ্চিত করা হয়। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নে মুখপাত্র নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তারিখ: ২২.১১.২০২৪