গণ-অভ্যুত্থানের তিন মাস পরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই
Categories:

রংপুরে আট দফা দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। সমাবেশে সনাতন সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন, মঠ-মন্দিরে হামলার বিচার, এবং সংবিধান সংস্কারে সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। উপস্থিত নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঐক্যের ডাক দেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট শুক্রবার বিকেলে রংপুরের মাহীগঞ্জ কলেজ মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে। সমাবেশে আট দফা দাবির পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয় এবং দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও পুণ্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তিনি অভিযোগ করেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের একটি অংশ সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়কে দেশ থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টায় লিপ্ত। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও হিন্দুদের বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনা থামেনি।"
সনাতন জাগরণ মঞ্চ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট একত্র হয়ে ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট’ নামে নতুন সংগঠন গঠন করে। এই সংগঠনের ব্যানারেই রংপুরে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের জন্য পূর্বনির্ধারিত রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুমতি না পেয়ে মাহীগঞ্জ কলেজ মাঠে সমাবেশটি করা হয়। বিকেল তিনটায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বলেন, “৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে রংপুরে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন আবু সাঈদ। তাঁর আত্মত্যাগ ছিল বাক্স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহাবস্থানের জন্য। কিন্তু এখনো সেই আত্মত্যাগের কোনো সঠিক ফল দেখা যাচ্ছে না।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমাবেশে আসা শত শত বাসকে পথে আটকে রাখা হয় এবং কিছু স্থানে হামলা চালানো হয়। আহত কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দেশের সনাতনী হিন্দুদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দিয়ে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ঐক্যের বাতাসে আমরা বিভক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াব। বিভক্তকারী যে-ই হোক, তাকে আমরা ছুঁড়ে ফেলব।”
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সংবিধান সংস্কারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ছাড়া কোনো সংবিধান সংস্কার আমরা মেনে নেব না। আমাদের যুক্ত করুন, আমরা রাষ্ট্র বিনির্মাণে সহযোগী হতে চাই।”
সমাবেশে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ তপনানন্দ গিরি মহারাজ, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, বাঁশখালী ঋষিধামের মোহন্ত সচিদানন্দ পুরী মহারাজ, কৈবল্যধামের মহারাজ কালিপদ ভট্টাচার্য, এবং স্বামী গোপীনাথ মহারাজ।
বক্তারা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে উপস্থিত সবাইকে ঐক্যের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ের জন্য সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।
তারিখ: ২৫.১১.২০২৪