তুরাগে দাহ্য পদার্থে হিন্দু মা-মেয়ের শরীর ঝলসে গেল, ছিনতাই
Categories:

রাজধানীর তুরাগে এক দুর্বৃত্তের দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপে মা ও মেয়ের শরীর ঝলসে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মায়ের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে হামলাকারী। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজে দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করা গেলেও এখনো মামলা হয়নি।
ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০২৪: রাজধানীর তুরাগ এলাকার কামারপাড়ায় বৃহস্পতিবার সকালে এক হৃদয়বিদারক ছিনতাই ও হামলার ঘটনা ঘটে। এক দুর্বৃত্তের নিক্ষিপ্ত দাহ্য পদার্থে ঝলসে গেছেন সাথী রানী হালদার (৩৬) এবং তাঁর দুই বছরের মেয়ে বিজয়িনী হালদার। বর্তমানে তাঁরা রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাথী রানীর শরীরের ১৩ শতাংশ এবং বিজয়িনীর শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
বিজয়িনী হালদারের চাচা অশ্বিনী হালদার জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাথী রানী মেয়েকে নিয়ে বাড়ির অদূরে একটি সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে একজন যুবক তাঁদের অনুসরণ করতে থাকেন। বাড়ির গেটে পৌঁছানোর পর ওই যুবক তাঁদের কাছে জানতে চান, “এখানে রফিক নামের কেউ আছে কি?” হঠাৎই নিজের হাতে থাকা দাহ্য পদার্থ তাঁদের দিকে ছুড়ে মারেন এবং সাথীর গলায় থাকা আট আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে প্রথমে উত্তরা শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই যুবক হামলার আগে থেকেই তাঁদের পেছনে পেছনে হাঁটছিলেন। সাথীর স্বামী জয় কুমার হালদার, যিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন, বলেছেন যে তাঁদের পরিবার এ ঘটনায় ভীষণ শোকাহত। সাথী রানী একজন গৃহিণী এবং তিন কন্যার জননী।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। আহতদের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার বনাই নগর ফরিদপুর থানার ডেমড়া গ্রামে। বর্তমানে তাঁরা তুরাগ কামারপাড়া মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তারিখ: ২২.১১.২০২৪