গাইবান্ধায় সাঁওতালদের সাত দফা দাবি ও বিক্ষোভ মিছিল
Categories:

বাপ-দাদার জমি ফেরত, তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ করেছেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী-পুরুষ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে তাঁরা এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ২০১৬ সালের সংঘর্ষে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার আট বছরেও শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
গাইবান্ধা, ২১ নভেম্বর, ২০২৪: বাপ-দাদার জমি ফেরত এবং ২০১৬ সালে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী-পুরুষ। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তাঁরা তির-ধনুক ও ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন।
মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশ হয়। সেখানে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাক্সে। বক্তব্য দেন আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী গোলাম রব্বানী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতা প্রিসিলা মুরমু, সাঁওতাল হত্যা মামলার বাদী থোমাস হেমব্রমসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তাঁদের দাবির পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ভূমি উচ্ছেদ অভিযানে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন সাঁওতাল নিহত ও ২০ জন আহত হন। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি।
তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. বাপ-দাদার জমি ফেরত দেওয়া।
২. তিন সাঁওতাল হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ।
৪. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
৫. সাঁওতাল শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক স্কুল প্রতিষ্ঠা।
৬. ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি কমিশন গঠন।
৭. বিরোধপূর্ণ জমিতে ইপিজেড নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ।
বক্তারা আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সাঁওতালরা ভূমিহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে তাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সংস্কৃতি ও ভাষার বিলুপ্তি ঘটছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আজও চলমান।”
আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তারিখ: ২২.১১.২০২৪