সুনামগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কোচিং সেন্টারের হিন্দু শিক্ষক গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আকাশ কুমার সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আকাশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
সুনামগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কোচিং সেন্টারের হিন্দু শিক্ষক গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আকাশ কুমার সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আকাশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

সুনামগঞ্জ, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি, ইসলাম ধর্ম এবং নারীদের পর্দা নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে আকাশ কুমার সিংহ (২৬) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একটি কোচিং সেন্টারের গণিত শিক্ষক। আজ মঙ্গলবার খায়েরদিরচর গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলামের করা মামলার ভিত্তিতে আকাশকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি আকাশকে তাঁর নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ধর্মপাশা থানার পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতে খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে আকাশের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আকাশকে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক হাফিজুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

আকাশ কুমার সিংহ থানায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো কটূক্তি বা ধর্মীয় বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি দাবি করেছেন, কোচিং সেন্টারে গণিত পড়ানো নিয়ে তাঁর ও খায়রুল ইসলামের মধ্যে পূর্বে থেকেই বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বিপাকে ফেলার জন্য এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

আকাশ বলেন, “ধর্ম নিয়ে কোনো কথা-কাটাকাটি হয়নি। এটি একটি ষড়যন্ত্র।” তবে খায়রুল ইসলাম বলেছেন, “২৮ অক্টোবর কোচিং সেন্টারে আকাশ মহানবী (সা.), ইসলাম ধর্ম ও পর্দা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যদিও আমাদের কাছে এর ডকুমেন্টারি প্রমাণ নেই, তবে তিনি অনেকের সামনে এই কথা বলেছেন বলে স্বীকার করেছেন।”

মামলার বিষয়ে খায়রুল ইসলাম আরও জানান, “কোচিং সেন্টারে গণিত পড়ানো নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। এটি সম্পূর্ণ অন্য একটি ইস্যু।”

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা চলমান থাকায় সব দিক থেকেই বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

তারিখ: ২০.১১.২০২৪