‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধনের প্রস্তাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা। সম্প্রতি হাইকোর্টে সংবিধানের অষ্টম অনুচ্ছেদ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে ধাবিত হতে পারে। ঐক্যমোর্চা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের এবং অসাম্প্রদায়িক সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।
‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধনের প্রস্তাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা। সম্প্রতি হাইকোর্টে সংবিধানের অষ্টম অনুচ্ছেদ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে ধাবিত হতে পারে। ঐক্যমোর্চা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের এবং অসাম্প্রদায়িক সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতার জায়গায় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ প্রতিস্থাপনের অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা। তাদের মতে, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুর অধিকার, এবং নাগরিক সমতার বিরুদ্ধে যায়।

গত সোমবার ঢাকায় এক সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন এই বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরে। সভায় জানানো হয়, ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া হলে সংখ্যালঘুরা আরও বৈষম্যের শিকার হবে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হবে। ঐক্যমোর্চা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অমান্য করবে না, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

সভায় বক্তারা বলেন, সংবিধানের মৌলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার চেষ্টা একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার পরিপন্থি। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, “এমন পরিবর্তন মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শের পরিপন্থি। সংখ্যালঘুরা এমন সিদ্ধান্তে নিজেদের নিরাপত্তাহীন বোধ করবে।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে, রিসার্চ অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের সভাপতি চন্দন সরকারসহ আরও অনেকে।

সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিলে তা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাবে।

সভায় সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সংবিধানের দায়িত্ব। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রস্তাবিত পরিবর্তন বৈষম্য বাড়াবে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে এবং সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ দূর করবে।

তারিখ: ২২.১১.২০২৪